ইকটু মিষ্টি মুখ হয়ে যাক !

আমি লেখক বা সাহিত্যিক নই। তাই এই লেখাটা গরুর রচনা মনে হলে, আমি একান্তই ক্ষমাপ্রার্থী।

“দাদা, পাঁচ রকম সন্দেশ দুটো করে দেবেন তো ! ওই সামনে থেকে দেবেন কিন্তু ।”

কাশফুল আর নীলাকাশ জানান দিয়ে দিয়েছে মা আসছেন ।

আপামর বাঙালীর আনন্দ উৎসবের ঘন্টা পড়ে গেছে ।

রাত জেগে লাইন দিয়ে ঠাকুর দেখা আর রেস্তোরাঁয় খাওয়া দাওয়া । আরামপ্রিয় বাঙালী পূজোর কদিন বিন্দুমাত্র ক্লান্তিহীন ।

এই বিশাল আয়োজনের ভিড়ে পর্তুগিজদের থেকে ছানা তৈরি করতে শেখা বাঙালীর মিষ্টি মন্থনে কিন্তু কোনো প্রকার বিরাম নেই ।

আপনি যদি সত্যিই কোনও বাঙালীকে অপ্রস্তুতির মধ্যে ফেলত চান তবে একবার তার প্রিয় মিষ্টির নামটা অবশ্যই জিজ্ঞাসা করবেন । কারণ কোনটা ছেড়ে কোনটা পছন্দ তা ঠিক করা খুবই দুস্কর !FJDP_0405FJDP_0487FJDP_0496FJDP_0578FJDP_0591FJDP_0609

এই শারদীয়ার উৎসব মুখর দিনগুলোত কিছু আকর্ষণীয় মিষ্টির স্বাদ নেওয়া থেকে বাঙালী কিন্তু বিরত থাকে না ।

বিজয়া এখনও অনেক দেরি !

ইকটু মিষ্টি মুখ হয়ে যাক !

মিষ্টি খাওয়ার জন্য কোনও দিন ক্ষণ লাগে নাকি আবার ??

এই শারদীয়ার উৎসব মুখর দিনগুলোত কিছু আকর্ষণীয় মিষ্টির স্বাদ নেওয়া থেকে বাঙালী কিন্তু বিরত থাকে না ।

মিষ্টি দই – উৎসব,অনুষ্ঠান বা পুজো পার্বণ হোক,বাঙালি বাড়িতে মিষ্টি দই এক অপরিহার্য অঙ্গ। মিষ্টি দই ছাড়া বাঙালি খাবার সবসময়ই অসম্পূর্ণ থাকে। পুজোর দিন গুলোতে তো কথাই নেই । পুজোর থালায় নৈবিদ্যতে দই তো থাকবেই থাকবে। দক্ষিণ কলকাতার মিঠাই, উত্তর কলকাতার অমৃতের মিষ্টি দই সত্যিই অমৃত।

রসোগোল্লা – বাঙালির রসনাকে তৃপ্ত করতে মুখে গলে যাওয়া গরম গরম স্পঞ্জের মত নরম রসোগোল্লার জুড়ি মেলা ভার । নবীনচন্দ্র দাস যে ‘রসগোল্লা’ তৈরি করে সবাইকে তাক লাগিয়েছিলেন, ওনারই নাতি কে সি দাস তারই যোগ্য উত্তরাধিকার । মিষ্টি জগতে দুজনের অবদানই অপরিহার্য।

রাজভোগ – এই ঐতিহ্যবাহী বাঙালি মিষ্টিটি রসোগোল্লার মতই কিন্তু আয়তনে বড় । এই ভোজের মরসুমে রাজভোগ অনবদ্য । আমহার্ট স্ট্রিট মোড়ের পুঁটিরামের স্পেশাল রাধাবল্লভীর সঙ্গে রাজভোগ।

পায়েস – পায়েসের অপূরণীয় মিষ্টি ঘ্রাণ আপনাকে আনন্দের সাথে ভরিয়ে দেবে । ভোগের সাথে পায়েসের মাধুর্যই আলাদা । শেষ পাতে দই যেমন ভোজনরসিক বাঙালীর প্রিয় তেমনি জমজমাট ভোজনের পরে এক হাতা পায়েস উদর এবং মন, দুটোকেই সুখাবেশে ভরিয়ে দেয়।

মালপোয়া – বিজয়ার পর থেকেই বাড়িতে মালপোয়া বানানোর ধুম লেগে যায়। সুজি, ময়দা মিশিয়ে মুচমুচে ভাজা, বা চিনির রসে মাখামাখি। তবে রসে ফেলার আগে ভাজা মালপোয়াও কিন্তু দারুণ সুস্বাদু।

মিহিদানা – বর্ধমানের মিহিদানা বাংলার তথা ভারতের ঐতিহ্যবাহী মিষ্টান্ন হিসেবে স্বীকৃত। পূজোর সকালে লুচি আর মিহিদানা অবিচ্ছেদ্দ অঙ্গ !

লবঙ্গ লতিকা – লবঙ্গ লতিকায় এক কামড়ে ভেতরের পুর যখন মুখে পড়ে, উফফ ! দারুণ লাগে কিন্তু ! সঙ্গে হালকা লবঙ্গের স্বাদ। অত্যন্ত মুখরোচক এই লতিকার মাধুর্য্য আলাদা আর পুজোর মিষ্টির তালিকায় হামেশাই জায়গা করে নিয়েছে।

লেডিকিনি – লেডি ক্যানিং এর জন্য ভীম নাগের দুহাত ভরা উপহার এই মিষ্টি বাংলায় প্রচুর জনপ্রিয়তা অর্জন করেছে । হালকা ভাজা লালচে-বাদামী মিষ্টি । রসে টইটুম্বুর এই মিষ্টি হাড়ি থেকে তুলে শুধু মুখে পুড়ে দিন। গরম হলে তো আর কথাই নেই।

বেক্ড মিষ্টি – বেক্ড মিষ্টি ইদানিং কালের সংযোজন। বেক্ড রসগোল্লা, বেক্ড চমচম এখন বাঙালির পছন্দের খাবার। আর তারই সাথে ঠাকুর ঘরেই জায়গা করে নিয়েছে এই আধুনিক সৃষ্টি। কলকাতার বলরাম মল্লিক অ্যান্ড রাধারমন মল্লিক এই বেকড মিষ্টিতে অগ্রণী ভূমিকা পালন করে

“মিষ্টি খাওয়ার তীব্র আকাঙ্ক্ষা মোটেই ডায়াবেটিস রোগের লক্ষণগুলির মধ্যে পড়ে না ! ”

এই উক্তটি বাঙালি শিরধার্য করে পূজোর কত দিন বেরিয়ে পরে প্যান্ডেল ও খাদ্য মন্থনে। মিষ্টি ছাড়া এই খাদ্য মন্থন একেবারেই অনস্বীকার্য।

মায়ের বরণ থেকে শুরু করে, প্রসাদের থালায়, পূজোর ভোগে, অঞ্জলি আর বিদায় বেলায় সর্বক্ষেত্রেই বৈচিত্র্যময় মিষ্টির উপস্থিতি লক্ষণীয় । মিষ্টি নিয়ে বাঙালীর মাতামাতি ভোজের শেষ পাতেও ।

সকাল সকাল মিষ্টির দোকান গুলোতে ভিড় দেখলেই বোঝা যায় মিষ্টির চাহিদা। পুরোনো হোক বা নতুন, আমাদের পাড়ার হাবুদা বা গিরিশ পার্কের শেঠজি, সবাই নিজের পছন্দের মত মিষ্টি কিনে অঞ্জলি দিতে কিন্তু ভোলে না । আর খাদ্যরসিক হলে তো বাড়ির জন্য আলাদা এক বাক্স না হলেই নয় ।

ঐতিহ্যবাহী দোকানগুলোর মাখা সন্দেশ,শঙ্খ সন্দেশ, গুজিয়া,জিলিপি থেকে শুরু করে গিরিশচন্দ্র দে,নকুরচন্দ্র নন্দীর জলভরা সন্দেশ, শহরতলি থেকে দূরে চুঁচুড়ার সন্ধ্যাশ্রীর হানিডিউ আপনার মন ভোলাবেই।

মিষ্টিমুখে শুভ হোক আপনার শারদীয়া।

বিশেষ শুভেচ্ছা –

Girish Chandra Dey and Nakur Chandra Nandy
Sandhyasree Sweets
K C Gope & Co.

Photography Concept – Jaydeep Seth & Tanmay Basak

© Copyright 2019 The Photographer The Foodinista

All rights reserved. All photographs are the property of Tanmay Basak. The use of any images, in whole or part, for any purpose, including, but not limited to, reproduction, storage, manipulation, digital or otherwise, is expressly prohibited without the written permission.

These images are not royalty free and a fee is required for each specific usage. This includes the use of any of these images for use in web pages. Such usage could conflict with the interest of my other clients for a specific purpose. To inquire about the use of any of these images, please contact me via Messenger !!

আরও বিস্তারিত জানতে চোখ রাখুন আমার পাতায় –

The Foodinista
instagram/fascinatingfoodie
zomato/fascinatingfoodie
https://www.facebook.com/groups/159751014147600
https://www.facebook.com/MunchingMonks

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google photo

You are commenting using your Google account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.